গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথার কারণ ও করণীয়

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথার বিভিন্ন কারণ এবং করণীয়

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কিছু কারণ স্বাভাবিক, আবার কিছু কারণ গুরুতর হতে পারে। তাই, গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথার কারণ ও করণীয়


গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথার সাধারণ কারণ

  • বৃত্তাকার লিগামেন্টের ব্যথা: জরায়ু বড় হওয়ার সাথে সাথে লিগামেন্টগুলো প্রসারিত হয়, যার ফলে পেটে ব্যথা হতে পারে।
  • গ্যাস এবং ফোলাভাব: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার ফলে গ্যাস এবং ফোলাভাব দেখা দেয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, যা পেটে ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • ব্র্যাক্সটন হিকস সংকোচন: এটি গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে শুরু হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথার গুরুতর কারণ

  • গর্ভপাত: গর্ভপাতের কারণে পেটে তীব্র ব্যথা এবং রক্তপাত হতে পারে।
  • এক্টোপিক গর্ভাবস্থা: জরায়ুর বাইরে ভ্রূণ স্থাপিত হলে পেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
  • প্রিক্ল্যাম্পসিয়া: এটি একটি গুরুতর অবস্থা, যার কারণে উচ্চ রক্তচাপ এবং পেটে ব্যথা হতে পারে।
  • প্ল্যাসেন্টাল অ্যাবরাপশন: জরায়ু থেকে প্লাসেন্টা আলাদা হয়ে গেলে পেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই): ইউটিআই-এর কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে।
  • অকাল প্রসব: ৩৭ সপ্তাহের আগে প্রসব বেদনা শুরু হলে পেটে ব্যথা হতে পারে।
  • কোমরে ব্যথা: পেটের ব্যথার সাথে কোমরে ব্যথা হলে তা প্রসব বেদনার লক্ষণ হতে পারে।
  • পেট শক্ত হয়ে যাওয়া: পেটের ব্যথার সাথে পেট শক্ত হয়ে গেলে তা ব্র্যাক্সটন হিকস সংকোচনের লক্ষণ হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথা হলে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন:

  • তীব্র ব্যথা হলে।
  • রক্তপাত হলে।
  • জ্বর হলে।
  • বমি হলে।
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে।
  • শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে।

প্রয়োজনে আরো পড়ুন:

প্রসাব ইনফেকশনের কারণ ও করণীয় 

কি কি কারনে গর্ভপাত হতে পারে এবং করণীয়

গর্ভাবস্থায় চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও করনীয় কি ?

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথা হলে যা করবেন:

পেটে ব্যথা হলে করণীয় বিষয়গুলো হলো:

 গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে, কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যা পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

১. বিশ্রাম: পেটে ব্যথা হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমতে পারে।

২. প্রচুর পানি পান করা: শরীরে পর্যাপ্ত জল থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা কম হতে পারে। তাই, গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

৩. গরম সেঁক: পেটে হালকা গরম সেঁক দিলে মাংসপেশির ব্যথা কমে আরাম পাওয়া যায়।

৪. হালকা ব্যায়াম: হালকা ব্যায়াম করলে পেটের পেশী শিথিল হয় এবং ব্যথা কমে। তবে, ব্যায়াম করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৫. সঠিক খাবার গ্রহণ: গর্ভাবস্থায় গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার পরিহার করা উচিত। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল, সবজি, শস্য ইত্যাদি খাবার তালিকায় রাখা উচিত।

৬. আদা: আদা বমি বমি ভাব এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনি আদা চা পান করতে পারেন বা তাজা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন।

৭. ক্যামোমিল চা: ক্যামোমিল চা পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৮. গরম পানিতে গোসল: গরম পানিতে গোসল করলে পেটের পেশী শিথিল হয় এবং ব্যথা কমে।

৯. ঢিলেঢালা পোশাক: আঁটসাঁট পোশাক পেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই, ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত।

১০. ম্যাসাজ: হালকা ম্যাসাজ পেটের পেশী শিথিল করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় পেট ব্যথা হলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

Post a Comment

Previous Next