গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ কী?কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় সমূহ

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। হরমোনের পরিবর্তন এবং গর্ভের শিশুর বৃদ্ধির কারণে এটি হয়ে থাকে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ কী?

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে যা করণীয়

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন: প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
  • আঁশযুক্ত খাবার খান: ফল, শাকসবজি, শস্য এবং মটরশুঁটি জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন: হালকা ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • প্রোবায়োটিক খাবার গ্রহণ করুন: দই এবং অন্যান্য প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ নিন: যদি কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনাকে নিরাপদ ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা দিতে পারেন।

যেসব খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এমন কিছু খাবার নিচে উল্লেখ করা হলো:

আঁশযুক্ত খাবার:

  • ফল: আপেল, কলা, নাশপাতি, কমলা, বেরি, খেজুর, ডুমুর।
  • শাকসবজি: ব্রকলি, গাজর, পালং শাক, মটরশুঁটি, মিষ্টি আলু।
  • শস্য: ওটস, বাদামী চাল, গমের রুটি, বিভিন্ন ধরনের ডাল।
  • বীজ ও বাদাম: তিসি বীজ, চিয়া বীজ, বাদাম।
  • প্রোবায়োটিক খাবার:দই, কেফির।
  • তরল খাবার:
  • পানি: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • ফলের রস: যেমন, আপেল বা প্রুনের রস।
  • অন্যান্য খাবার:ইসবগুলের ভুসি।

এই খাবারগুলো অন্ত্রের গতি বাড়িয়ে মল নরম করতে সাহায্য করে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

কিছু টিপস:

  • আঁশযুক্ত খাবার ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন, যাতে পেট ফাঁপা বা গ্যাস না হয়।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন, যা অন্ত্রের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, চিনিযুক্ত খাবার এবং দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

যেসব খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে

কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে এমন কিছু খাবার নিচে উল্লেখ করা হলো:

প্রক্রিয়াজাত খাবার:

  • ফাস্ট ফুড, যেমন বার্গার, ফ্রাই, পিৎজা।
  • তৈরি খাবার, যেমন চিপস, কুকিজ, ক্র্যাকার্স।
  • এসব খাবারে ফাইবার কম থাকে এবং চর্বি ও লবণ বেশি থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে
  • দুগ্ধজাত খাবার:
  • দুধ, পনির, আইসক্রিম।
  • কিছু মানুষের ল্যাকটোজ সহ্য হয় না, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে।
  • চিনিযুক্ত খাবার:ক্যান্ডি, কেক, পেস্ট্রি, কোমল পানীয়।এসব খাবারে ফাইবার কম থাকে এবং চিনি বেশি থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে।
  • লাল মাংস:গরুর মাংস, খাসির মাংস।লাল মাংসে ফাইবার কম থাকে এবং চর্বি বেশি থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে।
  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়:কফি, চা।ক্যাফেইন শরীর থেকে পানি বের করে দেয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে।
  • অ্যালকোহল:অ্যালকোহল শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
  • কিছু ওষুধ:কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, আয়রন সাপ্লিমেন্ট এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।

কিছু টিপস:

  • এই খাবারগুলো পরিমিত পরিমাণে খান।
  • আঁশযুক্ত খাবার এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রয়োজনে আরও জানুন ,

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কিছু সতর্কতা:

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নিচে কয়েকটি সতর্কতা উল্লেখ করা হলো:

নিজের থেকে কোনো ওষুধ খাবেন না:

  • গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য প্রচলিত অনেক ওষুধ গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • বেশি চাপ দিয়ে মলত্যাগ করবেন না:বেশি চাপ দিয়ে মলত্যাগ করলে পায়ুপথে ফিশার বা হেমোরয়েড হতে পারে।
  • দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না:দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন:প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
  • আঁশযুক্ত খাবার খান:ফল, শাকসবজি, শস্য এবং মটরশুঁটি জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন:হাঁটা, সাঁতার কাটা বা যোগব্যায়ামের মতো হালকা ব্যায়াম কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রোবায়োটিক খাবার গ্রহণ করুন:দই এবং অন্যান্য প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ নিন:যদি কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনাকে নিরাপদ ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা দিতে পারেন।
  • কিছু খাবার পরিহার করুন:প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত খাবার এবং দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এই খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে তোলে।

যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি হয়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Post a Comment

Previous Next