কি কি কারনে সিজারের পর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়
সিজারের পর পায়খানা শক্ত হওয়ার কয়েকটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

- অস্ত্রোপচারের কারণে: সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অন্ত্রের নড়াচড়া কিছুটা কমে যায়। এর ফলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং পায়খানা শক্ত হতে পারে।
- ব্যথানাশক ওষুধ: সিজারের পর ব্যথা কমানোর জন্য যে ওষুধগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
- শারীরিক কার্যকলাপের অভাব: সিজারের পর কয়েকদিন বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। তবে, অতিরিক্ত বিশ্রাম অন্ত্রের নড়াচড়া কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে পায়খানা শক্ত হয়ে যায়।
- হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পর শরীরের হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলোও কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।
- ডিহাইড্রেশন: সিজারের পর অনেক নারী পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন না। এর ফলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় এবং পায়খানা শক্ত হয়ে যায়।
- মানসিক চাপ: সিজারের পর মানসিক চাপ এবং উদ্বেগও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
খাদ্য পরিবর্তন:সিজারের পর ডাক্তার কিছু খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন। এরফলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।
আয়রন সাপ্লিমেন্ট:সিজারের পর অনেক সময় আয়রন ট্যাবলেট খেতে হয়, যার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থায় সাধারণত কখন কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে?
গর্ভাবস্থায় সাধারণত প্রথম দিক থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এক থেকে দুই মাস পর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে এছাড়াও অনেক রোগী আছে অনেক গর্ভবতী আছে তাদের শিশু জন্ম দানের পরেও তিন মাস পর্যন্ত কোষ্ঠকাঠিন্য থাকতে পারে ।
কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন
কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে কিনা, তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো:
- কম মলত্যাগ:সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে বলে ধরা হয়।
- শক্ত মল:মল যদি শক্ত এবং শুকনো হয়, তবে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- মলত্যাগে অসুবিধা:মলত্যাগের সময় যদি খুব বেশি চাপ দিতে হয় বা ব্যথা অনুভব হয়, তবে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ।
- অসম্পূর্ণ মলত্যাগ:মলত্যাগের পর যদি মনে হয়, পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি, তবে এটিও কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ।
- পেট ফোলা ও ব্যথা:কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পেটে অস্বস্তি, ফোলাভাব এবং ব্যথা হতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ:
- অন্ত্রের নড়াচড়া কমে যাওয়া।
- পেটে অস্বস্তি বোধ করা।
- ক্ষুধা কমে যাওয়া।
- মাথাব্যথা এবং দুর্বলতা অনুভব করা।
যদি এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কয়েকটি আপনার মধ্যে দেখা যায়, তবে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
যেসব খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়
এই সমস্যা সমাধানের কিছু উপায়:
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন: প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
- আঁশযুক্ত খাবার খান: ফল, শাকসবজি, এবং শস্যজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।
- হালকা ব্যায়াম করুন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম শুরু করুন।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ওষুধ:
- কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণে নিজে থেকে কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না ঘরোয়া পদ্ধতিতে সমাধান না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করবেন ।
Tags:
Pregnancy